Academy

কিনু গোয়ালার গলি 

দোতলা বাড়ির 

লোহার গারদ দেওয়া একতলা ঘর 

পথের ধারেই। 

লোনা-ধরা দেয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি, 

মাঝে মাঝে স্যাঁতা-পড়া দাগ।

….             …..            …..          …..          …..

আমি ছাড়া ঘরে থাকে আর একটা জীব 

এক ভাড়াতেই, 

সেটা টিকটিকি। 

তফাত আমার সঙ্গে এই শুধু- 

নেই তার অন্নের অভাব।

আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে কেন? (অনুধাবন)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

শক্ত ও মজবুত না হওয়ায় আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে।

'আসমানি' কবিতায় আসমানিদের দরিদ্রতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, তারা যে বাড়িতে থাকে সেটা আসলে বাড়ি নয়,। যেন পাখির বাসা। পাখির বাসা যেমন সামান্য ঝড়ে নড়বড় করে, পানিতে ভিজে যায়, আসমানিদের বাড়িটি তেমনই। আসমানিদের বাড়িটি ভেন্না পাতা দিয়ে ছাউনি দেওয়া। বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, আর সামান্য ঝড় হলেই ঘর নড়বড় করে। এ কারণেই আসমানিদের বাড়িকে 'পাখির বাসা' বলা হয়েছে।

9 months ago

আসমানি

আসমানি

জসীমউদ্‌দীন

আসমানিরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা- ভেন্না পাতার ছানি
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানিরা থাকে বছর ভরে।

পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক'খান হাড়,
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি,
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গার বরনের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয়নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।

আসমানিদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে,
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে
সেই জলেতে রান্না খাওয়া আসমানিদের চলে।
পেটটি তাহার ফুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।

Content added By

Related Question

View More

1 আসমানিদের গ্রামের নাম কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 9 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

আসমানিদের গ্রামের নাম রসুলপুর।

প্রশ্নোক্ত চরণ দুটি দ্বারা দারিদ্র্যের কশাখাতে জর্জরিত আসমানির বিপর্যস্ত রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।

আসমানি দরিদ্র পরিবারের একটি বালিকা। অভাবের তাড়নায় সে পেট ভরে কখনো খেতে পায় না। অনাহারে থাকতে থাকতে শীর্ণ শরীরের হাড় গুনে বের করা যায়। তার মুখের মিষ্টি হাসিটুকু নিভে গেছে অভাবের হিংস্র থাবায়। প্রশ্নোক্ত চরণ দুটিতে এ ভাবই বোঝানো হয়েছে।

আসমানিদের ঘরের সাথে লালচাঁন মিয়ার ঘরটির সাদৃশ্য রয়েছে।

দারিদ্র্য মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আভিশাপ। আমাদের বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যপীড়িত। অভাবের যন্ত্রণায় তারা দিশেহারা। অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে তারা হিমশিম খায়। বাসস্থান তাই তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ে।

কবিতার আসমানি এবং উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়া অভাবের তাড়নায় দিশেহারা। আসমানিদের ঘরের অবস্থা খুবই খারাপ। সেটা এত ছোট যে তাকে পাখির বাসা বলে মনে হয়। নড়বড়ে খুঁটির উপর ভেন্না পাতার ছাউনি দেওয়া। একটুখানি বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। সামান্য হাওয়ায় নড়বড় করে। উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়ার ঘরও আসমানিদের ঘরের মতো জীর্ণ-শীর্ণ। তাদের একটি মাত্র ঘরের ছাউনি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে। এখানেই আসমানিদের ঘরের সাথে লালচাঁন মিয়ার ঘরের সাদৃশ্য দেখা যায়।

"লালচাঁন মিয়ার মতো মানুষগুলোর অভাব যেন পিছু ছাড়ে না"- উক্তিটি 'আসমানি' কবিতার আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

অভাব মানুষের মনুষ্যত্ববোধ ধ্বংস করে। ।। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনের স্বপ্ন, আশা, শুভবুদ্ধি অভাবের তাড়নায় শেষ হয়ে যায়। এই অভিশাপের বরুিদ্ধে যুদ্ধ করতে করতেই তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। পরের জমি বর্গা করে কোনোরকমে বেঁচে থাকতে চায়। কিন্তু দুবছরের বন্যা ও খরায় জমিতে ফসল ফলাতে পারে না। পরিবারের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান সে করতে পারে না। লালচাঁন মিয়ার মতো অসংখ্য মানুষ এদেশে রাত-দিন অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছে কিন্তু অভাব তাদের পিছু ছাড়ে 'না। এই দৃশ্য 'আসমানি' কবিতায় দারিদ্র্যপীড়িত আসমানিদের বর্ণনার মাধ্যমে কবি তুলে ধরেছেন।

'আসমানি' কবিতায় অসমানিরা দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত। অভাবের তাড়নায় তারা তাদের খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারে না। খেতে না পেয়ে বুকের হাড় জেগে উঠেছে। পাখির বাসার মতো ঘরটি ভেঙে পড়ার উপক্রম। অসুখের সময় ওষুধ-পথ্য জোটে না। শত চেষ্টা করেও অভাবের হাত থেকে তারা রেহাই পায় না। যেমন পায় না উদ্দীপকের লালচাঁন মিয়ার মতো মানুষেরা। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি উদ্দীপক ও 'আসমানি' কবিতার আলোকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

আসমানির গলার সুর বাঁশির মতো।

উদ্দীপকের সঙ্গে 'আসমানি' কবিতার দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্টময় জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।

আমাদের সমাজের সব মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা সমান নয়। কেউ সুখী-সমৃদ্ধ জীবন কাটায়, আবার কেউ খাদ্য-বস্ত্রের সংস্থানও করতে পারে না। তাদের জীবন অতি কষ্টে অতিবাহিত হয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কিনু গোয়ালার গলিতে অবস্থিত দোতলা বাঁড়ির কথা বলা হয়েছে। যেখানে পথের ধারেই লোহার গারদ দেওয়া একতলা ঘর। লোনা-ধরা দেওয়াল মাঝে মাঝে ধসে গেছে। স্যাঁতসেঁতে দাগ পড়া সেই ঘরে যে ব্যক্তিটি থাকে তার অন্নেরও অভাব। 'আসমানি' কবিতায়ও আসমানিদের দারিদ্র্যের নির্মম অবস্থার কথা বলা হয়েছে। তাদের বাড়িটি পাখির বাসার মতো, একটু বৃষ্টি হলে জল গড়িয়ে পড়ে। একটু হাওয়া লাগলে ঘরটি নড়বড় করে। সে ঠিকমতো খেতে পায় না। মলিন ও ছেঁড়া তাদের পোশাক। বাড়ির আশপাশটাও অস্বাস্থ্যকর উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় চরম দারিদ্র্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সঙ্গে 'আসমানি' কবিতার দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্টময় জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...